দেশের উপকূলীয় অঞ্চলকে শীর্ষস্থানীয় উৎপাদন ও রফতানিনির্ভর মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলে রূপান্তরের লক্ষ্যে মাতারবাড়ীতে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর দ্রুত উন্নয়নের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগের (এমআইডিআই) অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব মো. সিরাজ উদ্দিন মিঞা। আরো ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদসহ সড়ক পরিবহন, নৌ-পরিবহন, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবরা। এ সময় এমআইডিআই সেলের মহাপরিচালক সরোয়ার আলম চলমান প্রকল্পগুলোর একটি বিস্তৃত পর্যালোচনা উপস্থাপন করেন।
ড. ইউনূস বলেন, ‘আমরা মাতারবাড়ীকে দেশের বৃহত্তম বন্দর, লজিস্টিকস, উৎপাদন ও জ্বালানি হাব হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখি। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমাদের বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হবে।’ তিনি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তুলে ধরেন।
এ অঞ্চলকে দেশের অন্য অংশের সঙ্গে সংযুক্ত করতে দ্রুত সড়ক এবং বড় সমুদ্রগামী কনটেইনার জাহাজ গ্রহণে সক্ষম টার্মিনাল নির্মাণের জন্য সড়ক পরিবহন ও নৌ-পরিবহন সচিবদের নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা। এছাড়া তিনি অঞ্চলটিতে পরিকল্পিত নগরায়ণের ওপর গুরুত্ব দেন, যাতে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোতে কর্মরত বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের আবাসনের ব্যবস্থা করা যায়।
প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা করেন, জাপান সফরে মহেশখালী-মাতারবাড়ী অঞ্চলের উন্নয়ন হবে তার আলোচনার প্রধান বিষয়। তিনি টোকিওতে অনুষ্ঠেয় ৩০তম নিক্কেই ফিউচার অব এশিয়া সম্মেলনে যোগ দেবেন এবং ৩০ মে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন, যার লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা।
সভায় আরো জানানো হয়, জাপান মাতারবাড়ী অঞ্চলে তাদের দ্বিতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করতে চায়। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে স্থাপিত প্রথম জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করেছে।
এছাড়া সৌদি আরবের পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি আরামকো, আবুধাবি পোর্টস, সৌদি বন্দর অপারেটর রেড সি গেটওয়ে, জাপানি বিদ্যুৎ উৎপাদক জেরা এবং মালয়েশিয়ার পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি পেট্রোনাস অঞ্চলটিতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
মাতারবাড়ীতে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের জন্য সম্প্রতি বাংলাদেশ জাপানের দুটি কোম্পানি—পেন্টা-ওশেন কনস্ট্রাকশন কো. লিমিটেড এবং টোয়া করপোরেশনের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) এ প্রকল্পে সহায়তা করছে, যা মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগের একটি প্রধান স্তম্ভ এবং এটি অঞ্চলটির সংযুক্তি ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।